লিটন হোসাইন জিহাদ
✓@admin · সাহিত্যপ্রেমী
এই লেখক এখনো নিজের পরিচয় যোগ করেননি।

📖 লিটন হোসাইন জিহাদ — “বেদনার নীল প্রহর”
নদীর ধারে সেই বিকেলটা ছিল অন্যরকম—নরম সূর্যাস্ত, হালকা কুয়াশার আভা, আর বাতাসে নদীর স্রোতের এক অদ্ভুত সঙ্গীত। রিকসার চাকা পিচ্ছিল মাটিতে ঢেঁকুও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম, মনে অজানা উত্তেজনা, অচেনা আগ্রহ। ঠিক তখনই রায়হানা—রাজুতির বন্ধু, শহরের পরিচিত মুখ—আমার দিকে এগিয়ে এল। “পথিক, দেখ, আমি এক বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। সে রাজুতি,” বলল…

📖 লিটন হোসাইন জিহাদ — “বেদনার নীল প্রহর”
নদীর ধারে সেই বিকেলটা ছিল অন্যরকম—নরম সূর্যাস্ত, হালকা কুয়াশার আভা, আর বাতাসে নদীর স্রোতের এক অদ্ভুত সঙ্গীত। রিকসার চাকা পিচ্ছিল মাটিতে ঢেঁকুও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম, মনে অজানা উত্তেজনা, অচেনা আগ্রহ। ঠিক তখনই রায়হানা—রাজুতির বন্ধু, শহরের পরিচিত মুখ—আমার দিকে এগিয়ে এল। “পথিক, দেখ, আমি এক বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। সে রাজুতি,” বলল…

আমার সোনার বাংলা

জীবন কখনোই সবকিছু আমাদের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে দেয় না। কখনো আনন্দ আসে, কখনো দুঃখ; কখনো মানুষ পাশে থাকে, আবার কখনো প্রিয় মানুষগুলোও দূরে সরে যায়। তবুও জীবন থেমে থাকে না—নিজের গতিতে এগিয়ে চলে।
মনে রাখবেন, খারাপ সময় চিরস্থায়ী নয়। আজ যে কষ্ট আপনাকে ভেঙে দিচ্ছে, একদিন সেই কষ্টই আপনাকে আরও শক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তাই পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবেন না।
মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সুন্দর একটি মন। অর্থ, খ্যাতি কিংবা সাফল্য একদিন হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু একজন মানুষের ভালো ব্যবহার, ভালোবাসা ও সুন্দর কথাগুলো অন্যের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।

প্রকৃতি

জীবন কখনোই সবকিছু আমাদের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে দেয় না
জীবন কখনোই সবকিছু আমাদের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে দেয় না। কখনো আনন্দ আসে, কখনো দুঃখ; কখনো মানুষ পাশে থাকে, আবার কখনো প্রিয় মানুষগুলোও দূরে সরে যায়। তবুও জীবন থেমে থাকে না—নিজের গতিতে এগিয়ে চলে। মনে রাখবেন, খারাপ সময় চিরস্থায়ী নয়। আজ যে কষ্ট আপনাকে ভেঙে দিচ্ছে, একদিন সেই কষ্টই আপনাকে আরও শক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তাই […]

পথিকটিভি সাহিত্য প্লাটফর্মে নতুন লেখক যুক্ত হোন
আপনার লেখা, আপনার পরিচয়—পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নতুন ঠিকানা আপনি কি কবিতা লেখেন? গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া, ভ্রমণকাহিনি কিংবা সাহিত্যভিত্তিক কোনো লেখা নিয়ে নিয়মিত চর্চা করেন? তাহলে আপনার সৃষ্টিশীলতার জন্য **পথিকটিভি সাহিত্য প্লাটফর্ম** হতে পারে একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় ঠিকানা। প্রতিটি লেখকের ভেতরে থাকে একটি নিজস্ব গল্প, নিজস্ব ভাষা এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। অনেক সময় ভালো […]

প্রিয়াহীন শ্রাবণ
শ্রাবণের আকাশ আজ এক বিধবা সমুদ্র,
বুকের সমস্ত নীল হারিয়ে
কালো মেঘের শাড়ি পরে বসে আছে বিষণ্নতার ঘাটে।
দূরে কোথাও বাজ পড়লো মনে হয়,
কেউ অন্ধকারের বুক চিরে
তোমার নামটি লিখে আবার মুছে ফেলছে।
বৃষ্টি নামে।
নিঃশব্দে, অবিরাম, অভিমানীর চোখের মতো।
জানালার কাঁচ বেয়ে নেমে আসে অসংখ্য জলরেখা,
প্রতিটি রেখায় তোমার মুখের একেকটি স্মৃতি,
প্রতিটি ফোঁটায় একেকটি অসমাপ্ত বিদায়।
আজ কেয়া ফুলের গন্ধেও বিষাদ।
কদমের গোল মুখে জমে আছে
বহুদিনের না-বলা কোনো প্রেমের পাণ্ডুলিপি।
বাতাস যখন কদমের ডালে হাত রাখে,
মনে হয়—
প্রকৃতিও বুঝি আজ আমাকে জিজ্ঞেস করছে,
“সে কোথায়?”
আমি কোনো উত্তর দিই না।
শুধু দূরের জলমগ্ন মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকি।
সেখানে বৃষ্টিরা ঘাসের শরীরে
হাজার বছরের কোনো গোপন মন্ত্র লিখে যাচ্ছে,
আর ব্যাঙের ডাকের ভেতর দিয়ে
রাত ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে
এক অতল প্রাচীন জাদুর দেশ।
কখনো মনে হয়,
তুমি এইমাত্র এসে দাঁড়াবে দরজায়।
ভেজা চুল থেকে টুপটুপ করে পড়বে শ্রাবণ,
চোখের কোণে থাকবে মেঘের মতো মায়া,
আর তুমি বলবে,
“এতদিন কোথায় ছিলে?”
আমি তখন হয়তো হাসব,
যেমন শুকনো নদী বর্ষার প্রথম জলে হাসে।
কিন্তু দরজা খোলে না।
শুধু হাওয়া আসে।
তোমার অনুপস্থিতির মতো ঠান্ডা,
তোমার স্মৃতির মতো দীর্ঘ।
রাত বাড়ে।
মেঘের গর্ভে চাঁদটি
এক মৃত রাজ্যের নির্বাসিত রাজপুত্রের মতো
আলোহীন ঘুমিয়ে থাকে।
আর আমি একা বসে শুনি—
টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ,
দূরের বাঁশবাগানে বাতাসের কান্না,
কদমপাতায় জল ঝরার ক্ষীণ সুর।
এই পৃথিবীতে কত বৃষ্টি আসে,
কত নদী ভরে ওঠে,
কত কেয়া ফুল ফোটে,
কত কদমের গন্ধে রাত মাতাল হয়;
শুধু আমার ঘরের ভেতর
একটি ঋতু কোনোদিন আসে না।
তোমার ঋতু।
তাই শ্রাবণ এলেই
আমি আকাশের দিকে তাকাই না আর।
কারণ জানি,
মেঘ যতই নামুক,
বৃষ্টি যতই পৃথিবী ভাসাক,
কোনো বর্ষাই ফিরিয়ে দিতে পারে না
হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে।
তবু বৃষ্টি নামে।
কেয়া দোলে।
কদম ফোটে।
নদী উথলে ওঠে।
আর আমার একাকী জানালার পাশে
একটি পুরোনো হৃদয়
শ্রাবণের শেষ বৃষ্টির মতো
তোমাকে ভালোবেসেই
ধীরে ধীরে
অন্ধকার হয়ে যায়।

প্রিয়াহীন শ্রাবণ
শ্রাবণের আকাশ আজ এক বিধবা সমুদ্র,
বুকের সমস্ত নীল হারিয়ে
কালো মেঘের শাড়ি পরে বসে আছে বিষণ্নতার ঘাটে।
দূরে কোথাও বাজ পড়লো মনে হয়,
কেউ অন্ধকারের বুক চিরে
তোমার নামটি লিখে আবার মুছে ফেলছে।
বৃষ্টি নামে।
নিঃশব্দে, অবিরাম, অভিমানীর চোখের মতো।
জানালার কাঁচ বেয়ে নেমে আসে অসংখ্য জলরেখা,
প্রতিটি রেখায় তোমার মুখের একেকটি স্মৃতি,
প্রতিটি ফোঁটায় একেকটি অসমাপ্ত বিদায়।
আজ কেয়া ফুলের গন্ধেও বিষাদ।
কদমের গোল মুখে জমে আছে
বহুদিনের না-বলা কোনো প্রেমের পাণ্ডুলিপি।
বাতাস যখন কদমের ডালে হাত রাখে,
মনে হয়—
প্রকৃতিও বুঝি আজ আমাকে জিজ্ঞেস করছে,
“সে কোথায়?”
আমি কোনো উত্তর দিই না।
শুধু দূরের জলমগ্ন মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকি।
সেখানে বৃষ্টিরা ঘাসের শরীরে
হাজার বছরের কোনো গোপন মন্ত্র লিখে যাচ্ছে,
আর ব্যাঙের ডাকের ভেতর দিয়ে
রাত ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে
এক অতল প্রাচীন জাদুর দেশ।
কখনো মনে হয়,
তুমি এইমাত্র এসে দাঁড়াবে দরজায়।
ভেজা চুল থেকে টুপটুপ করে পড়বে শ্রাবণ,
চোখের কোণে থাকবে মেঘের মতো মায়া,
আর তুমি বলবে,
“এতদিন কোথায় ছিলে?”
আমি তখন হয়তো হাসব,
যেমন শুকনো নদী বর্ষার প্রথম জলে হাসে।
কিন্তু দরজা খোলে না।
শুধু হাওয়া আসে।
তোমার অনুপস্থিতির মতো ঠান্ডা,
তোমার স্মৃতির মতো দীর্ঘ।
রাত বাড়ে।
মেঘের গর্ভে চাঁদটি
এক মৃত রাজ্যের নির্বাসিত রাজপুত্রের মতো
আলোহীন ঘুমিয়ে থাকে।
আর আমি একা বসে শুনি—
টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ,
দূরের বাঁশবাগানে বাতাসের কান্না,
কদমপাতায় জল ঝরার ক্ষীণ সুর।
এই পৃথিবীতে কত বৃষ্টি আসে,
কত নদী ভরে ওঠে,
কত কেয়া ফুল ফোটে,
কত কদমের গন্ধে রাত মাতাল হয়;
শুধু আমার ঘরের ভেতর
একটি ঋতু কোনোদিন আসে না।
তোমার ঋতু।
তাই শ্রাবণ এলেই
আমি আকাশের দিকে তাকাই না আর।
কারণ জানি,
মেঘ যতই নামুক,
বৃষ্টি যতই পৃথিবী ভাসাক,
কোনো বর্ষাই ফিরিয়ে দিতে পারে না
হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে।
তবু বৃষ্টি নামে।
কেয়া দোলে।
কদম ফোটে।
নদী উথলে ওঠে।
আর আমার একাকী জানালার পাশে
একটি পুরোনো হৃদয়
শ্রাবণের শেষ বৃষ্টির মতো
তোমাকে ভালোবেসেই
ধীরে ধীরে
অন্ধকার হয়ে যায়।

বৃষ্টি-বিহীন শ্রাবণের দিনে
তিতাসের কুলঘেষে- স্মৃতির ধুলো হয়ে জমে আছে এক বিস্মৃত উপাখ্যান যার গল্প কোনো চন্দ্রালোকিত রাতে লেখা হয়নি, যার নাম কোনো পুরাতন কবিতার ছন্দে ধরা পড়েনি। সে এক অসমাপ্ত গানের মতো, সুরের অতলে হারিয়ে যাওয়া ব্যথার প্রতিধ্বনি, যার কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই, কোনো ভাষা নেই, আছে শুধু অনুভূতির শিহরণ। সে অদেখা স্বপ্নের মতো এসেছিল অথচ ছুঁয়ে […]

বিশ্বাসটা গিলে খেয়েছো
আমাদের শপথগুলো- ছেঁড়া চিঠির মতো উড়ে গেছে বাতাসে, তোমার চোখের ঠাণ্ডা বিভ্রমে তলিয়ে গেছে সত্যের রেশ, বিশ্বাসটা গিলে খেয়েছো অনেক আগেই, এখন আশাটুকু চিবিয়ে খেতে চাও ধূসর সন্ধ্যার মতো। তুমি কি জানো, মনোলোভা? বিশ্বাস একবার মরে গেলে, সে আর জন্মায় না, আলো যেমন একবার নিভে গেলে আর দীপশিখা হয়ে ওঠে না। তুমি দ্বিচারীনি, তোমার ছলনার […]

প্রেমের পাপশুদ্ধি
তোমার ছলনা_ ঝর্ণার মতো স্বচ্ছ জেনেও তৃষ্ণার্ত ঠোঁট এগিয়ে দিয়েছি বহুবার, অতৃপ্ত বদনে কখনো মুক্তি চাইনিÑ বরং সেচ্ছায় বন্দি হয়ে আছি এই পাপশুদ্ধির ঘরে, প্রেমের প্রতিটি দাগ অমর ক্ষত হয়ে জ্বলবে, আর আমি জানবো- ভালোবাসলেই, ক্ষমা করতে নেই- তুমি তো জানোই না, রাতের আকাশ- তার কালো রঙে কতোটা দুঃখ পোষে, কতোটা কান্না ঢেকে রাখে অমাবশ্যার […]
রচনা
জীবন কখনোই সবকিছু আমাদের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে দেয় না
জীবন কখনোই সবকিছু আমাদের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে দেয় না। কখনো আনন্দ আসে, কখনো দুঃখ; কখনো মানুষ পাশে থাকে, আবার কখনো প্রিয় মানুষগুলোও দূরে সরে যায়। তবুও জীবন থেমে থাকে না—নিজের গতিতে…
রচনাটি পড়ুন →
পথিকটিভি সাহিত্য প্লাটফর্মে নতুন লেখক যুক্ত হোন
আপনার লেখা, আপনার পরিচয়—পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নতুন ঠিকানা আপনি কি কবিতা লেখেন? গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া, ভ্রমণকাহিনি কিংবা সাহিত্যভিত্তিক কোনো লেখা নিয়ে নিয়মিত চর্চা করেন? তাহলে আপনার সৃষ্টিশীলতার জন্য…
রচনাটি পড়ুন →
বৃষ্টি-বিহীন শ্রাবণের দিনে
তিতাসের কুলঘেষে- স্মৃতির ধুলো হয়ে জমে আছে এক বিস্মৃত উপাখ্যান যার গল্প কোনো চন্দ্রালোকিত রাতে লেখা হয়নি, যার নাম কোনো পুরাতন কবিতার ছন্দে ধরা পড়েনি। সে এক অসমাপ্ত গানের মতো,…
রচনাটি পড়ুন →
বিশ্বাসটা গিলে খেয়েছো
আমাদের শপথগুলো- ছেঁড়া চিঠির মতো উড়ে গেছে বাতাসে, তোমার চোখের ঠাণ্ডা বিভ্রমে তলিয়ে গেছে সত্যের রেশ, বিশ্বাসটা গিলে খেয়েছো অনেক আগেই, এখন আশাটুকু চিবিয়ে খেতে চাও ধূসর সন্ধ্যার মতো। তুমি…
রচনাটি পড়ুন →
প্রেমের পাপশুদ্ধি
তোমার ছলনা_ ঝর্ণার মতো স্বচ্ছ জেনেও তৃষ্ণার্ত ঠোঁট এগিয়ে দিয়েছি বহুবার, অতৃপ্ত বদনে কখনো মুক্তি চাইনিÑ বরং সেচ্ছায় বন্দি হয়ে আছি এই পাপশুদ্ধির ঘরে, প্রেমের প্রতিটি দাগ অমর ক্ষত হয়ে…
রচনাটি পড়ুন →
প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জনে প্রতিবন্ধক নয়
একসময় জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যম ছিল কাগজ-কলম, শিক্ষক ও গ্রন্থাগার। আজ সেই জ্ঞান মানুষের হাতের মুঠোয়—একটি স্মার্টফোন, কম্পিউটার কিংবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের অসংখ্য গ্রন্থ, গবেষণা ও শিক্ষার দুয়ার খুলে গেছে।ফলে…
রচনাটি পড়ুন →
আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই
জন্মের বহু পূর্বেই আত্মাকে ডাকা হয়েছিল এক গোপন সভায়। আলোর অতল সাগরে, যেখানে সময় আর স্থান ছিল না, সেখানে স্রষ্টা প্রশ্ন করেছিলেন— “ألست بربكم؟” — আমি কি তোমাদের রব নই?”—…
রচনাটি পড়ুন →
বাবা চলে গেছে আজ এক বছর
এই পথের প্রতিটি ধুলিকণা, প্রতিটি বাঁক, পরিচিত এক ব্যথার প্রতিচ্ছবি। এখানে বয়ে গেছে অসংখ্য ঝড়, যার প্রতিটি তাণ্ডব এক একটি স্বপ্নকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছে। পরিচিত মুখগুলো যেমন ম্লান হয়েছে, তেমনি অবশিষ্ট…
রচনাটি পড়ুন →
“হাতিরঝিলে পরিত্যক্তার চোখ”
দু’দিন ধরে ঢাকা আমার শরীরে গেঁথেছে ধোঁয়া, বৃষ্টির জলে গলে গেছে ছাতা, গলে যায় বুকের দেয়াল, শহরের চৌরাস্তা যেন হৃদয়ের বিভক্তি— এক দিকে প্রেমিক যুগল, অন্য দিকে আমি— একাকী, হাতিরঝিলের…
রচনাটি পড়ুন →
বেদনার নীল প্রহর
নদীর ধারে সেই বিকেলটা ছিল অন্যরকম—নরম সূর্যাস্ত, হালকা কুয়াশার আভা, আর বাতাসে নদীর স্রোতের এক অদ্ভুত সঙ্গীত। রিকসার চাকা পিচ্ছিল মাটিতে ঢেঁকুও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম, মনে অজানা…
রচনাটি পড়ুন →বেদনার নীল প্রহর পর্ব-২
শহরের এক প্রান্তে, পুরোনো দিনের আভিজাত্য আর নতুন সময়ের প্রাচুর্য মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মায়াদের বাড়ি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কোনো এক বিস্মৃত যুগের স্মৃতি এখনও সেখানে নিঃশব্দে বেঁচে…
রচনাটি পড়ুন →
বেনামী নীল প্রহর -১
বদলে যাওয়া মানুষের মুখ দেখে, মাঝে মাঝে আমি বরফের মতো জমে যায়। অথচ একটা সময় একটু ভালোবাসার উষ্ণতা আমাকে অ্যান্টার্কটিকা বরফের মতো গলিয়ে দিত । আর এখন নিঃশ্বাস টুকু গিলে,…
রচনাটি পড়ুন →
মো: মনিরুজ্জামান নাসিরনগর উপজেলায় শ্রেষ্ট সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত
নাসিরনগর উপজেলার গোয়াল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: মনিরুজ্জান উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বহুমুখী অবদান রাখার জন্য তিনি উপজেলা পর্যায়ে…
রচনাটি পড়ুন →মাজারে হামলা: সমাজে বিভাজন সৃষ্টির ষড়যন্ত্র?
মাজারে হামলা: সমাজে বিভাজন সৃষ্টির ষড়যন্ত্র? লিটন হোসাইন জিহাদ সম্প্রতি বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরপরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাজার ও দরবার শরীফে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশজুড়ে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।…
রচনাটি পড়ুন →বডি লেখা
সংবাদের বডি (Body) হলো লিড ও হেডলাইনের পরের অংশ যেখানে সংবাদকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। ডিজিটাল সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বডি ঠিকভাবে লেখা পাঠককে সংবাদ সহজে বোঝার এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণের সুযোগ…
রচনাটি পড়ুন →হেডলাইন লেখার কৌশল
হেডলাইন হলো সংবাদের প্রথম দরজা। এটি পাঠকের নজর আকর্ষণ করে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে—সংবাদটি পড়বে কি না। ডিজিটাল যুগে, যেখানে পাঠক মিনিটের মধ্যে স্ক্রল করে নিচে যায়, হেডলাইন আরও…
রচনাটি পড়ুন →নিউজ লেখা এ টু জেট
নিউজ খুঁজে পাওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সেটিকে সঠিকভাবে লেখা। অনেক সময় ভালো খবর থাকলেও দুর্বল লেখার কারণে তা পাঠকের কাছে পৌঁছায় না। আবার ভুল শব্দচয়ন বা অসতর্ক বাক্য…
রচনাটি পড়ুন →তথ্য সংগ্রহে নিরাপত্তা
ডিজিটাল সাংবাদিকতার একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংবাদ সংগ্রহের সময় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিউজ খুঁজে বের করা যেমন জরুরি, তেমনি এটি হতে হবে নিরাপদ ও দায়িত্বপূর্ণ। সাহস থাকা প্রয়োজন,…
রচনাটি পড়ুন →স্থানীয় খবরের গুরুত্ব
ডিজিটাল সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্থানীয় খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ করা। সাধারণত মানুষ জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংবাদকে বেশি চোখে দেখে, কিন্তু বাস্তবে তাদের দৈনন্দিন জীবন, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও…
রচনাটি পড়ুন →ফেসবুক পোস্ট কি নিউজ হতে পারে
ফেসবুক হলো ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিদিন লাখো পোস্ট, ভিডিও এবং ছবি শেয়ার হয়। তবে ফেসবুক পোস্ট সরাসরি নিউজ নয়। এটি কেবল একটি সূত্র হতে পারে—সংবাদ তৈরি…
রচনাটি পড়ুন →
বিদ্রোহের মশাল
বুকে জেগে উঠেছে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, প্রাচীন মহাকাব্যের প্রলয়ের সুরে গর্জন তোলেছে ক্রোধ, নিরীহ মানুষের রক্তে প্লাবিত শহর, দুঃশাসনের বিষাক্ত শ্বাসে শ্মশান হয়েছে নগর। মায়ের ক্রন্দন, শিশুর লাশ- নিরবতার দেয়াল ভেঙে…
রচনাটি পড়ুন →কমিউনিটি পোস্ট
অনুসরণকারীরা

📖 লিটন হোসাইন জিহাদ — “বেদনার নীল প্রহর”
নদীর ধারে সেই বিকেলটা ছিল অন্যরকম—নরম সূর্যাস্ত, হালকা কুয়াশার আভা, আর বাতাসে নদীর স্রোতের এক অদ্ভুত সঙ্গীত। রিকসার চাকা পিচ্ছিল মাটিতে ঢেঁকুও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম, মনে অজানা উত্তেজনা, অচেনা আগ্রহ। ঠিক তখনই রায়হানা—রাজুতির বন্ধু, শহরের পরিচিত মুখ—আমার দিকে এগিয়ে এল। “পথিক, দেখ, আমি এক বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। সে রাজুতি,” বলল…

📖 লিটন হোসাইন জিহাদ — “বেদনার নীল প্রহর”
নদীর ধারে সেই বিকেলটা ছিল অন্যরকম—নরম সূর্যাস্ত, হালকা কুয়াশার আভা, আর বাতাসে নদীর স্রোতের এক অদ্ভুত সঙ্গীত। রিকসার চাকা পিচ্ছিল মাটিতে ঢেঁকুও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম, মনে অজানা উত্তেজনা, অচেনা আগ্রহ। ঠিক তখনই রায়হানা—রাজুতির বন্ধু, শহরের পরিচিত মুখ—আমার দিকে এগিয়ে এল। “পথিক, দেখ, আমি এক বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। সে রাজুতি,” বলল…

আমার সোনার বাংলা

জীবন কখনোই সবকিছু আমাদের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে দেয় না। কখনো আনন্দ আসে, কখনো দুঃখ; কখনো মানুষ পাশে থাকে, আবার কখনো প্রিয় মানুষগুলোও দূরে সরে যায়। তবুও জীবন থেমে থাকে না—নিজের গতিতে এগিয়ে চলে।
মনে রাখবেন, খারাপ সময় চিরস্থায়ী নয়। আজ যে কষ্ট আপনাকে ভেঙে দিচ্ছে, একদিন সেই কষ্টই আপনাকে আরও শক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তাই পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবেন না।
মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সুন্দর একটি মন। অর্থ, খ্যাতি কিংবা সাফল্য একদিন হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু একজন মানুষের ভালো ব্যবহার, ভালোবাসা ও সুন্দর কথাগুলো অন্যের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।

প্রকৃতি

প্রিয়াহীন শ্রাবণ
শ্রাবণের আকাশ আজ এক বিধবা সমুদ্র,
বুকের সমস্ত নীল হারিয়ে
কালো মেঘের শাড়ি পরে বসে আছে বিষণ্নতার ঘাটে।
দূরে কোথাও বাজ পড়লো মনে হয়,
কেউ অন্ধকারের বুক চিরে
তোমার নামটি লিখে আবার মুছে ফেলছে।
বৃষ্টি নামে।
নিঃশব্দে, অবিরাম, অভিমানীর চোখের মতো।
জানালার কাঁচ বেয়ে নেমে আসে অসংখ্য জলরেখা,
প্রতিটি রেখায় তোমার মুখের একেকটি স্মৃতি,
প্রতিটি ফোঁটায় একেকটি অসমাপ্ত বিদায়।
আজ কেয়া ফুলের গন্ধেও বিষাদ।
কদমের গোল মুখে জমে আছে
বহুদিনের না-বলা কোনো প্রেমের পাণ্ডুলিপি।
বাতাস যখন কদমের ডালে হাত রাখে,
মনে হয়—
প্রকৃতিও বুঝি আজ আমাকে জিজ্ঞেস করছে,
“সে কোথায়?”
আমি কোনো উত্তর দিই না।
শুধু দূরের জলমগ্ন মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকি।
সেখানে বৃষ্টিরা ঘাসের শরীরে
হাজার বছরের কোনো গোপন মন্ত্র লিখে যাচ্ছে,
আর ব্যাঙের ডাকের ভেতর দিয়ে
রাত ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে
এক অতল প্রাচীন জাদুর দেশ।
কখনো মনে হয়,
তুমি এইমাত্র এসে দাঁড়াবে দরজায়।
ভেজা চুল থেকে টুপটুপ করে পড়বে শ্রাবণ,
চোখের কোণে থাকবে মেঘের মতো মায়া,
আর তুমি বলবে,
“এতদিন কোথায় ছিলে?”
আমি তখন হয়তো হাসব,
যেমন শুকনো নদী বর্ষার প্রথম জলে হাসে।
কিন্তু দরজা খোলে না।
শুধু হাওয়া আসে।
তোমার অনুপস্থিতির মতো ঠান্ডা,
তোমার স্মৃতির মতো দীর্ঘ।
রাত বাড়ে।
মেঘের গর্ভে চাঁদটি
এক মৃত রাজ্যের নির্বাসিত রাজপুত্রের মতো
আলোহীন ঘুমিয়ে থাকে।
আর আমি একা বসে শুনি—
টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ,
দূরের বাঁশবাগানে বাতাসের কান্না,
কদমপাতায় জল ঝরার ক্ষীণ সুর।
এই পৃথিবীতে কত বৃষ্টি আসে,
কত নদী ভরে ওঠে,
কত কেয়া ফুল ফোটে,
কত কদমের গন্ধে রাত মাতাল হয়;
শুধু আমার ঘরের ভেতর
একটি ঋতু কোনোদিন আসে না।
তোমার ঋতু।
তাই শ্রাবণ এলেই
আমি আকাশের দিকে তাকাই না আর।
কারণ জানি,
মেঘ যতই নামুক,
বৃষ্টি যতই পৃথিবী ভাসাক,
কোনো বর্ষাই ফিরিয়ে দিতে পারে না
হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে।
তবু বৃষ্টি নামে।
কেয়া দোলে।
কদম ফোটে।
নদী উথলে ওঠে।
আর আমার একাকী জানালার পাশে
একটি পুরোনো হৃদয়
শ্রাবণের শেষ বৃষ্টির মতো
তোমাকে ভালোবেসেই
ধীরে ধীরে
অন্ধকার হয়ে যায়।

প্রিয়াহীন শ্রাবণ
শ্রাবণের আকাশ আজ এক বিধবা সমুদ্র,
বুকের সমস্ত নীল হারিয়ে
কালো মেঘের শাড়ি পরে বসে আছে বিষণ্নতার ঘাটে।
দূরে কোথাও বাজ পড়লো মনে হয়,
কেউ অন্ধকারের বুক চিরে
তোমার নামটি লিখে আবার মুছে ফেলছে।
বৃষ্টি নামে।
নিঃশব্দে, অবিরাম, অভিমানীর চোখের মতো।
জানালার কাঁচ বেয়ে নেমে আসে অসংখ্য জলরেখা,
প্রতিটি রেখায় তোমার মুখের একেকটি স্মৃতি,
প্রতিটি ফোঁটায় একেকটি অসমাপ্ত বিদায়।
আজ কেয়া ফুলের গন্ধেও বিষাদ।
কদমের গোল মুখে জমে আছে
বহুদিনের না-বলা কোনো প্রেমের পাণ্ডুলিপি।
বাতাস যখন কদমের ডালে হাত রাখে,
মনে হয়—
প্রকৃতিও বুঝি আজ আমাকে জিজ্ঞেস করছে,
“সে কোথায়?”
আমি কোনো উত্তর দিই না।
শুধু দূরের জলমগ্ন মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকি।
সেখানে বৃষ্টিরা ঘাসের শরীরে
হাজার বছরের কোনো গোপন মন্ত্র লিখে যাচ্ছে,
আর ব্যাঙের ডাকের ভেতর দিয়ে
রাত ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে
এক অতল প্রাচীন জাদুর দেশ।
কখনো মনে হয়,
তুমি এইমাত্র এসে দাঁড়াবে দরজায়।
ভেজা চুল থেকে টুপটুপ করে পড়বে শ্রাবণ,
চোখের কোণে থাকবে মেঘের মতো মায়া,
আর তুমি বলবে,
“এতদিন কোথায় ছিলে?”
আমি তখন হয়তো হাসব,
যেমন শুকনো নদী বর্ষার প্রথম জলে হাসে।
কিন্তু দরজা খোলে না।
শুধু হাওয়া আসে।
তোমার অনুপস্থিতির মতো ঠান্ডা,
তোমার স্মৃতির মতো দীর্ঘ।
রাত বাড়ে।
মেঘের গর্ভে চাঁদটি
এক মৃত রাজ্যের নির্বাসিত রাজপুত্রের মতো
আলোহীন ঘুমিয়ে থাকে।
আর আমি একা বসে শুনি—
টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ,
দূরের বাঁশবাগানে বাতাসের কান্না,
কদমপাতায় জল ঝরার ক্ষীণ সুর।
এই পৃথিবীতে কত বৃষ্টি আসে,
কত নদী ভরে ওঠে,
কত কেয়া ফুল ফোটে,
কত কদমের গন্ধে রাত মাতাল হয়;
শুধু আমার ঘরের ভেতর
একটি ঋতু কোনোদিন আসে না।
তোমার ঋতু।
তাই শ্রাবণ এলেই
আমি আকাশের দিকে তাকাই না আর।
কারণ জানি,
মেঘ যতই নামুক,
বৃষ্টি যতই পৃথিবী ভাসাক,
কোনো বর্ষাই ফিরিয়ে দিতে পারে না
হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে।
তবু বৃষ্টি নামে।
কেয়া দোলে।
কদম ফোটে।
নদী উথলে ওঠে।
আর আমার একাকী জানালার পাশে
একটি পুরোনো হৃদয়
শ্রাবণের শেষ বৃষ্টির মতো
তোমাকে ভালোবেসেই
ধীরে ধীরে
অন্ধকার হয়ে যায়।

📖 pothiktv — “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণবার্ষিকী আজ”
বর্ষা ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় ঋতু। বর্ষাতেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরলোকে যাত্রা করেছিলেন বাঙালি মনন–সৃজনের এই অসাধারণ প্রতিভা। আজ বৃহস্পতিবার ২২ শ্রাবণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতে তাঁর জীবনাবসান হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখালেখি শুরু করেছিলেন মাত্র আট বছর বয়সে। বিচিত্র তার বিষয়, বিপুল তার পরিমাণ। তাঁর…

সময়ের সাথে সাথে

সময়ের সাথে সাথে

https://sahitya.pothiktv.com/writings/%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b2-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%b0/

https://sahitya.pothiktv.com/writings/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a5-%e0%a6%a0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%af/

সুন্দর ভাবনা

আমার সোনার বাংলা

হাই

কেউ কোনোদিন আমাকে চিঠি লেখেনি—
দুঃখের নীল খামে নয়,
সুখের রৌদ্রোজ্জ্বল ডাকেও নয়,
অপেক্ষার দীর্ঘ নিশ্বাস ভাঁজ করে
কেউ রাখেনি আমার নামে কোনো শব্দ।
ডাকপিয়নের পায়ের শব্দ শুনলেই
একসময় জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াতাম—
ভাবতাম, হয়তো আজ
কোনো অচেনা হৃদয়
আমার নিঃসঙ্গতার ঠিকানা জেনে গেছে।
কিন্তু ডাকপিয়ন চলে গেছে,
পৃথিবী তার সমস্ত চিঠি বিলিয়ে দিয়েছে অন্যত্র,
আর আমার দুয়ারে পড়ে থেকেছে
শুধু বাতাসের অব্যক্ত দীর্ঘশ্বাস।
কেউ কখনো জানতে চায়নি—
আমি কেমন আছি।
কেমন আছে আমার ভেতরের সেই শিশুটি,
যে এখনো সন্ধ্যা হলে
কারও ফিরে আসার শব্দ শোনে?
কেমন আছে আমার হৃদয়ের সেই নদী,
যার জল প্রতিদিন
নিজেরই তীরে এসে ভাঙে?
কেউ জানতে চায়নি—
রাত্রিগুলো আমাকে কতখানি খায়,
কতটা অন্ধকার জমলে
একজন মানুষ নিজের ছায়াকেও চিনতে পারে না।
সভ্যতার এই বিপুল আয়োজনের মধ্যে
আমি এক অদ্ভুত অসভ্যতার শিকার—
মানুষে মানুষে যোগাযোগের এত সেতু,
তবু হৃদয় থেকে হৃদয়ে
কোনো পথ নেই।
হাজারো কণ্ঠের এই নগরে
আমার নীরবতার জন্য
একটি কানও বরাদ্দ হয়নি।
এখানে সবাই খবর জানে—
কিন্তু কেউ খবর নেয় না।
সবাই চোখ রাখে পর্দায়,
কিন্তু কারও চোখে চোখ রেখে
জিজ্ঞেস করে না—
“তুমি সত্যিই ভালো আছো তো?”
সভ্যতা আমাকে দিয়েছে
অসংখ্য পরিচয়,
অসংখ্য সংখ্যা,
অসংখ্য সংযোগের প্রতিশ্রুতি—
তবু কেড়ে নিয়েছে
একটি মানুষের সহজ স্পর্শ।
আমি এখন এমন এক ঠিকানা,
যেখানে ডাকবাক্স আছে,
কিন্তু কোনো চিঠি নেই
#dadabhi

বৈশাখের পূর্ণিমার রাত, চাঁদ ভাঙা ভাঙা মেঘের আড়ালে উকিঝুকি করছে। দুর থেকে ভেসে আসছে খেকশেয়ালের আওয়াজ। আজকের রাতটা অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশিই সুন্দর। পৃথিবী ঘুমিয়ে থাকলেও নিহালের চোখে ঘুম নেই। সে যে বাড়িটিতে থাকে তা শহর থেকে দুই কিলোমিটার দুরে । শহর ও গ্রামের মিলনে এক ভিন্ন রকম পরিবেশ এ জায়গাটায়। উত্তর দিকে জানালা দিকে থাকলেই দেখা যায় পরিত্যাক্ত একটি রেলস্টেশন। পরিত্যাক্ত স্টেশন মাস্টারের রুমটা ঘেষেই দাঁড়িয়ে আছে একটি সুনালু ফুল গাছ। বসন্তকালে এর রূপ অনেকটায় মৃতপ্রায়। বৈশাখের আগ মুর্হুতে বসন্ত নিজকে গুটিয়ে নেওয়ার পরই সোনালু ফুল গাছটি এক অলৌকিক ভাবে যেন প্রাণ ফিরে পায়। গাছজুড়ে পুষ্পকলিরা উঁকি দেয়, ছড়িয়ে দেয় প্রাণের শিহরণ। সুনালো ফুল গাছটা যেন আজকে পৃথিবীর সকল সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কারো অপেক্ষায়। নেহালের বুকের যন্ত্রণা কি সে অনুভব করতে পারছে?

বৈশাখের পূর্ণিমার রাত, চাঁদ ভাঙা ভাঙা মেঘের আড়ালে উকিঝুকি করছে। দুর থেকে ভেসে আসছে খেকশেয়ালের আওয়াজ। আজকের রাতটা অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশিই সুন্দর। পৃথিবী ঘুমিয়ে থাকলেও নিহালের চোখে ঘুম নেই। সে যে বাড়িটিতে থাকে তা শহর থেকে দুই কিলোমিটার দুরে । শহর ও গ্রামের মিলনে এক ভিন্ন রকম পরিবেশ এ জায়গাটায়। উত্তর দিকে জানালা দিকে থাকলেই দেখা যায় পরিত্যাক্ত একটি রেলস্টেশন। পরিত্যাক্ত স্টেশন মাস্টারের রুমটা ঘেষেই দাঁড়িয়ে আছে একটি সুনালু ফুল গাছ। বসন্তকালে এর রূপ অনেকটায় মৃতপ্রায়। বৈশাখের আগ মুর্হুতে বসন্ত নিজকে গুটিয়ে নেওয়ার পরই সোনালু ফুল গাছটি এক অলৌকিক ভাবে যেন প্রাণ ফিরে পায়। গাছজুড়ে পুষ্পকলিরা উঁকি দেয়, ছড়িয়ে দেয় প্রাণের শিহরণ। সুনালো ফুল গাছটা যেন আজকে পৃথিবীর সকল সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কারো অপেক্ষায়। নেহালের বুকের যন্ত্রণা কি সে অনুভব করতে পারছে?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষাবিস্তার, সাংগঠনিক কর্ম ও সমাজকল্যাণমূলক কাজেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কৃষক ও পল্লির উন্নয়নের জন্য চালু করেছিলেন কৃষিঋণব্যবস্থা। নতুন ধরনের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠান। জালিয়ানওয়ালাবাগে দেশবাসীর ওপর ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সেনাদের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে তিনি ত্যাগ করেছিলেন নাইটহুড খেতাব।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা সুন্দরী দেবী দম্পতির ১৫ সন্তানের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ১৪তম। কলকাতার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের জোড়াসাঁকোর বাড়িতে তাঁর জন্ম ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখে। ঠাকুর পরিবার তখন ছিল মর্যাদা ও সংস্কৃতিচর্চায় বিশেষ খ্যাতির অধিকারী। সেই পরিবেশ শৈশবেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মনকে মুক্ত করে দিয়েছিল। পরবর্তীকালে বিশেষত বাংলার পদ্মা, মেঘনা, যমুনায় নৌকায় ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তিনি নিসর্গ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যার প্রভাব তাঁর সাহিত্যে বিপুলভাবে পড়েছে।
১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও কবির গান সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর গান আমাদের জাতীয় সংগীত। সব মিলিয়েই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণদিবস উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা সাতটায় গীতিনাট্য শ্যামা মঞ্চায়ন করবে ছায়ানট। রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

বাবা মানেই পায়ের নিচে ঝলসে যাওয়া পুলসেরাত,
নিজে পুড়ে সন্তানের জন্য আকাশ রেখে যান আভাস।
২.
যার কাঁধে ভর দিয়েই প্রথম উঠে দাঁড়াই,
সে কাঁধ একদিন হয়ে ওঠে বেহেশতের সিঁড়ি।
৩.
বাবা কোনো মানুষ নন—স্রষ্টার এক অনুবাদ,
যিনি নিঃশব্দে কষ্ট গিলে গড়ে তোলেন মহাকাব্যিক পরিবার।
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা যে দীপ, সে-ই বাবা,
তার ছায়ায় দাঁড়ালেই জীবন বুঝে নেয় তার মানে।

বেনামী নীল প্রহর -১
লিটন হোসাইন জিহাদ
বদলে যাওয়া মানুষের মুখ দেখে, মাঝে মাঝে আমি বরফের মতো জমে যায়। অথচ একটা সময় একটু ভালোবাসার উষ্ণতা আমাকে অ্যান্টার্কটিকা বরফের মতো গলিয়ে দিত । আর এখন নিঃশ্বাস টুকু গিলে, নিজের ভিতর নিজেকেই গুম করে ফেলি অজুত লক্ষ নিযুত কোটি বার।
একটি বিশ্বাস আর ভরসার নৌকার চড়ে আমার আর মায়ার প্রেম অর্ধযুগের বেশি সময় পার করেছে। যেদিন এক তরফা প্রেমের মহামারী থেকে বের হয়ে স্ব-জ্ঞানে ফিরে এলাম, মায়ার প্রেমের মুখোশটা খসে পড়লো আচমকা এক ধমকা হাওয়ায়। জোসনা মাখা বর্ষার রাত, দক্ষিনা হাওয়ায় জলের উপর নৌকার হেলেদুলে চলার মতোই মায়ার মনে দুলছে অন্য কেউ। জলের তলে চাঁদের ডুবসাঁতারি দেখতে দেখতে হয়তো মায়া আর নিজেকে আটকাতে পারেনি। একাকার হয়েছে দুজন।
আমি মায়াকে কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর সে ফোনটা ধরেছে। কিন্তু আমি তাকে আর ধরতে পারিনি। জলের নিস্তব্ধ বয়ে চলা জানিয়ে দিয়েছিল ঐদিন রাতে সে হারিয়েছে তার সম্ভ্রম আর আমি হারিয়েছি প্রেমের পবিত্রতা। সারা রাত বিশ্বাস ভাঙার ঝড়ে আর ঘুমাতে পারিনি। ভোরের আলো ফুটে ওটার আগেই আমি তার বাসায় চলে যায়, মায়ার সাথে একান্ত কথা বলার জন্য। হৃদয়ের আকুলতা এতোই বেড়ে গিয়েছিল যে, তার কাছে পৌছাতে আমি বঙ্গোপসাগর ও পারি দিতে পারতাম ঐ সময়।
মনে পরে খুব কফিতে চমুক দিতে দিতে আমরা- দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানিয়ে দিতাম। কখন যে সময় চলে যেতো মায়ার হাসিতে আমি তা বুঝতেই পারতাম না। এটা আমাদের বিগত সাত বছরের অভ্যাস। কিন্তু হঠাৎ করেই মায়া বদলে গেলো। ব্যস্ততার অজুহাতে সে তার অবহেলার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে লাগলো। নতুন করে নিজেকে সাজাতে লাগলো অন্যরূপে।
আগে রূপচর্চা নয়, আমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মায়ার প্রথম কাজ ছিল, ঠোঁটে লিপস্টিক পরাটা তার পছন্দ ছিলনা। অথচ অন্যকারো ভালো লাগায় সে এখন নিয়ম করে রূপচর্চা করে, ঠোঁটে লিপস্টিক লাগায়, চুলের প্রতিও অনেক যত্নশীল। বদলে যাওয়া মায়া হয়ে উঠলো শহরের লাস্যময়ী নারী। এমন কী কবিতার ছন্দে কেউ কেউ তাকে রাঙাতে শুরু করলো। শাড়ীতে অন্যচোখে হয়ে উঠলো সে নয়নতারা। কিন্তু আমি আর তাকে সুন্দর বলতে পারিনা,তাকে সুন্দর বলতে আমার খুব কষ্ট হয়। বলতে না পারার কারণেই দুঃখ পাই আরো বেশি।
আচ্ছা, আপনারা কি বলতে পারেন কোন কারনে নারীর সৌন্দর্য ভঙ্গ হয়? তবে আমি জানি! নারীর সৌন্দর্য হলো তার সততায় এবং তার জীবন সঙ্গীর বিশ্বস্তায়। চামরা ঝুলে পরা কোনো বয়স্ক নারীর ও তার সুন্দর্যে অটুট থাকতে পারে তার সঙ্গীর স্বচ্ছ ভালোবাসায়। অথচ মায়ার রহস্যময় বদলে যাওয়া তার শরীরের প্রতি যত্নশীল হলেও ভিতরের সৌন্দর্যটা সে হারিয়ে ফেললো।
এখন ইচ্ছে হলে আমি তাকে ছুঁতে পারি, কিন্তু অশ্রুজলে হাজারো রাত বিসর্জন দিয়েও তাকে আর ধরতে পারি না। আগে আমি তাকে না ছুঁলে সে আমাকে ধরে ছাড়তো। রোগের পথ্যের মতো নিয়ম করে তার কন্ঠস্বর সারিয়ে দিতো আমার জ্বর। মায়াহীন আমার কখনো সকাল হয়নি।
মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাত শেষ করে দেওয়া যেত দুজনের অথচ এখন তাকে ফোন দিলে ঘুমের অজুহাতে সে অন্য কানেকশনে ব্যস্ত থাকে।
প্রেমের বিচ্ছেদে ততটা বিচলিত নই আমি, যতটা বিচলিত তার রহস্যময় বদলে যাওয়ায়। মায়াকে সুখে দেখবো এই ভেবে নিজের অজান্তেই কতোবার নিজেরে স্বপ্নগুলো খুন করেছি, বিধাতার তা অজানা নয়। কিন্তু সে যেভাবে মিথ্যা অভিলাসে দ্বিচারীনি হয়ে উঠলো তা আমার হৃদয়ে ক্যান্সারের মতো এক রহস্যময় যন্ত্রনার জন্ম দিয়েছে। ভেঙে দিয়েছি আমার যত্নে রাখা বিশ্বাস। কয়েকটি দিনের ব্যবধানে জীবনের সকল স্বপ্ন লন্ডভন্ড হয়ে গেলো। বেদনার নীল প্রহরে পাথরচাপা কষ্ট বুকে নিয়ে পথচলা যে কি নিদারুন কষ্ট, প্রেমিক মাত্রই তা অনুভব করতে পারে।
এতোক্ষণ যে মায়ার কথা বলছি তার পারিবারিক নাম রাজুতি, তার সহপাঠি থেকে কর্মস্থলের সবাই তাকে এ নামেই চিনে। প্রাচুর্যের মাঝে এক প্রকার অবহেলায় বেড়ে উঠা নারী রাজুতি। গতানুগতিক প্রেম,সর্ম্পক ও জীবনধারার বাহিরে তার নিজেস্ব একটি জগত তৈরি করা ছিল। এখানে প্রবেশ করে আমার কল্পনার নারীর মতোই তাকে হৃদয়ের রানী বানিয়ে নিলাম। হাজার বছরের কল্পনার নারী যেভাবে পুরুষের হৃদয়ে ঘুরপাক খায় আমিও তার চেয়ে ভিন্ন কেউ ছিলাম না। আমার চোখে রাজুতি ছিল রোদ্রক উজ্জল ভোর,অনিন্দ্য কুসুম,সুবাসিত ফুল। তার কাজল রাঙা আখি ও লাজুক হাসিতে বার বার পরাজিত হতাম। সে ছিল মাধবী ভোরের মায়াবী সকাল,বুকের খুন দিয়ে হাজারো গুল্মে সজিব হয়েছিল হৃদয়ের বাগিচায়। আদর করে তার নামকরণ করেছিলাম “মায়া”।

তুমি যে আমার কবিতা

তুমি যে আমার কবিতা

তুমি যে আমার কবিতা

মাজারে হামলা: সমাজে বিভাজন সৃষ্টির ষড়যন্ত্র?
লিটন হোসাইন জিহাদ
সম্প্রতি বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরপরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাজার ও দরবার শরীফে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশজুড়ে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে হযরত সিলেট, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ আরও বেশ কিছু স্থানে এই হামলাগুলো লক্ষ্য করা গেছে। মাজার ভাঙচুরের এসব ঘটনা শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানেনি, বরং এটি সমাজের স্থিতিশীলতা, ঐতিহ্য, এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ওপরও চরম আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে। মাজার বা দরবার শরীফ শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং তা দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং বহু শতাব্দীর ঐতিহ্যের প্রতীক, যা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত।
উপমহাদেশে ইসলামের প্রথম রাজনৈতিক বিজয় ঘটে ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু প্রদেশে মুহাম্মদ বিন কাসিমের মাধ্যমে। আর ভারত উপমহাদেশে ইসলামের আগমন মূলত দ্বাদশ শতাব্দী থেকে শুরু হলেও এর প্রসার ও স্থায়িত্বে সুফি সাধক, বিশেষ করে ওলিদের (আধ্যাত্মিক নেতাদের) অবদান ছিল অনন্য। প্রথমদিকে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ইসলাম প্রবেশ করে, তবে এর আধ্যাত্মিক প্রভাব বৃদ্ধি পায় সুফি সাধকদের প্রচেষ্টায়। মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক বিজয়ের পাশাপাশি, ওলিরা মানুষকে আধ্যাত্মিক পথে আকৃষ্ট করে শান্তিপূর্ণভাবে ইসলাম প্রচার করেন।তাদের মাঝে অন্যতম হলেন খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (র.), যিনি চিশতিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতবর্ষে আধ্যাত্মিকতার আলো ছড়িয়ে দেন।বাংলাদেশে হযরত শাহজালাল রা. ও হযরত শাহপারান রা. এবং তাদের অনুসারীরা আধ্যাত্মিক শক্তি ও শিক্ষা দ্বারা বহু মানুষকে ইসলামের পথে আনেন।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মাজার মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, বিশেষ করে সুফিবাদের অনুসারীদের কাছে। এই পবিত্র স্থানগুলো আধ্যাত্মিক চর্চা এবং মানবতাবাদী শিক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। তাই এই ধরনের হামলা শুধু শারীরিকভাবে ক্ষতি সাধন করে না, বরং একটি বিশেষ ধর্মীয় ভাবনার ওপর আঘাত হানে যা মানুষকে একত্রিত করে রেখেছে। ফলে, মাজারে হামলা শুধুমাত্র একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজের একটি বৃহত্তর অংশকে তাদের আত্মিক ও মানসিক জগতে আঘাত করা এবং সামগ্রিকভাবে ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ঐক্যের ওপর হুমকি সৃষ্টি করা।
এই হামলাগুলো ধর্মপ্রাণ মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করেন, এই ধরনের হামলা মূলত সমাজকে বিভাজিত করার এবং ধর্মীয় সহিংসতার মাধ্যমে শৃঙ্খলা ভঙ্গের একটি ষড়যন্ত্র। মাজার এবং দরবার শরীফে হামলা যারা করে তারা কেবল ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার দ্বারা পরিচালিত নয়, বরং তাদের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলার দুর্বলতা প্রদর্শন করে সমাজের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করা। মাজারের আধ্যাত্মিকতা এবং ঐতিহ্যের সাথে যারা যুক্ত, তারা মনে করেন যে, এই ধরনের হামলা শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবমাননা নয়, বরং এটি সমাজের মুল্যবোধ ও সহনশীলতার ওপর সরাসরি আক্রমণ।
দেশের বিভিন্ন আলেম ও তরিকত সংগঠনগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে। বিশেষত, তরিকত পরিষদ তাদের দাবির মধ্যে মাজারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে এবং মাজার ভাঙচুরকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। তারা মনে করে, যদি এই ধরনের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করা না হয় এবং অপরাধীদের শাস্তি প্রদান করা না হয়, তবে সমাজে আরো বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।
রাষ্ট্রের করণীয় হিসেবে, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। মাজার ও দরবার শরীফগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এবং এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি উঠেছে, তারা যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং সমাজে পুনরায় শান্তি স্থাপনে ভূমিকা রাখে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি ও দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে সমাজে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা ধর্মীয় সহিংসতাকে উস্কে দিতে পারে।
সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই পরিস্থিতিতে। জনগণের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রান্ত প্রচার না করে, বরং শান্তি ও সংহতি বজায় রাখার জন্য প্রচারণা চালানো। মাজারে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন পক্ষ থেকে মতামত উঠে আসছে, তবে এমন সময়ে শান্তি ও সহনশীলতার জন্য একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করাই সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। বিভাজনের বদলে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এখন জরুরি, যাতে অপপ্রচার বা সহিংসতার জায়গা না থাকে।
মাজারে হামলা একটি দেশব্যাপী সংকটের সূচনা হতে পারে, যদি না এ বিষয়ে সমাধান খোঁজা হয়।মাজারে হামলা শুধু ধর্মীয় সহিংসতা নয়, বরং সমাজের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি ষড়যন্ত্রও হতে পারে। সরকারকে এসব ষড়যন্ত্রকারী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াতে হবে, যারা ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের দায়িত্ব হলো সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, মাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। রাষ্ট্রের কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ছাত্রনেতাদের শান্তি ও সংহতির প্রচারই পারে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে। সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতাকে রক্ষা করতে এই মুহূর্তে প্রয়োজন ঐক্য, দৃঢ়তা, এবং সচেতনতা।
লেখক: সাংবাদিক
মো: মনিরুজ্জামান নাসিরনগর উপজেলায় শ্রেষ্ট সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত
নাসিরনগর উপজেলার গোয়াল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: মনিরুজ্জান উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বহুমুখী অবদান রাখার জন্য তিনি উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪ উদযাপন কমিটি তাকে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত করেছেন।
জানা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে ৫টি ক্লাস্টার,যেখানে রয়েছে ১২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৫টি ক্লাস্টারের মধ্যে ১টি হলো চাতলপাড়, যেখান থেকে প্রাথমিক ভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গোয়ালনগর ইউনিয়ন থেকে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক এবং পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে ১২৬টি বিদ্যালয়ের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ ক্যাটাগরিতে) নির্বাচিত হয়েছে মোঃ মনিরুজ্জামান।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি গোয়াল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই অত্যন্ত সুনাম, সততা, যোগত্য, মননশীলতা ও দক্ষতার সাথে প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি প্রশাসনিক প্রশিক্ষণসহ শিক্ষার মান উন্নয়ন ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও সহ-পাঠ্যক্রমিক, শিক্ষামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত সুনামের সাথে ভালো ফলাফল অর্জন করে আসছেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নসহ পারিপার্শিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

ুািুািআবািই্

আমার সোনার বাংলা

সাংবাদিকতা বলতে আমরা কী বুঝি

বাস্তবে কাজ করছে কিনা পরীক্ষা করুন।

বাস্তবে কাজ করছে কিনা পরীক্ষা করুন।

৫ বডি লেখা
সংবাদের বডি (Body) হলো লিড ও হেডলাইনের পরের অংশ যেখানে সংবাদকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। ডিজিটাল সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বডি ঠিকভাবে লেখা পাঠককে সংবাদ সহজে বোঝার এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণের সুযোগ দেয়।
বডি লেখার মূল কৌশল
- তথ্য গুরুত্ব অনুযায়ী সাজানো
- বডিতে সংবাদকে ইনভার্টেড পিরামিড স্টাইলে সাজানো হয়।
- অর্থাৎ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আগে, কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরে।
- উদাহরণ: দুর্ঘটনা সংবাদে প্রথমে মৃত্যুর সংখ্যা, এরপর আহতদের অবস্থা, তারপর ঘটনার সময় ও স্থান এবং শেষের দিকে ঘটনার প্রেক্ষাপট বা অন্যান্য বিবরণ।
- প্রতিটি অনুচ্ছেদে একটি তথ্য
- এক অনুচ্ছেদে একটাই বিষয় বা তথ্য থাকলে পাঠক সহজে বুঝতে পারে।
- অনুচ্ছেদ ছোট ও স্পষ্ট হওয়া উচিত। দীর্ঘ ও জটিল অনুচ্ছেদ পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে।
- যাচাই করা তথ্য ব্যবহার করা
- প্রতিটি তথ্য যাচাই করা হতে হবে। অনুমান, গুজব বা অর্ধসত্য তথ্য বডিতে থাকা চলবে না।
- সূত্র উল্লেখ করা বা প্রমাণ সংযুক্ত করা বাঞ্ছনীয়।
- প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্রের বিবৃতি অন্তর্ভুক্ত করা
- সাক্ষী বা সূত্রের মন্তব্য সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
- উদাহরণ: “প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে।”
- পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য
- সংবাদে শুধু ঘটনা নয়, তার প্রভাব, প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী সম্ভাব্য ব্যবস্থাও উল্লেখ করা উচিত।
- এতে সংবাদ পাঠকের কাছে সম্পূর্ণ ও তথ্যবহুল হয়।
বডি হলো সংবাদের হৃদয়, যেখানে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি এবং প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ থাকে। তথ্যকে গুরুত্ব অনুযায়ী সাজানো, প্রতিটি অনুচ্ছেদে একটি বিষয় রাখা এবং যাচাই করা তথ্য ব্যবহার করা হলে সংবাদ পাঠকের কাছে পরিষ্কার, প্রভাবশালী ও বিশ্বাসযোগ্য হয়।
একজন দক্ষ ডিজিটাল সাংবাদিক বডি অংশে যথাযথ কাঠামো ব্যবহার করে পাঠককে পুরো গল্পটি বুঝতে সাহায্য করে এবং সংবাদকে তথ্যবহুল ও পেশাগতভাবে উপস্থাপন করে।

লিটন হোসাইন জিহাদ
@admin
এই লেখক এখনো নিজের বিস্তারিত পরিচিতি যোগ করেননি।
