সাহিত্যপ্রেমীদের নিবিড় মেলবন্ধন
আপনার ভাবনা, কবিতা, পাঠ-অভিজ্ঞতা ও সাহিত্যিক অনুভূতি ভাগ করে নিন। অন্য পাঠকের সঙ্গে সুন্দর আলোচনায় যুক্ত হোন এবং নতুন সৃষ্টির অনুপ্রেরণা খুঁজে নিন।
পোস্ট, ছবি, লাইক ও আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।
লগইন / নিবন্ধনতুমিহীন সকাল
আমার ফেলে আসা দিনগুলো প্রতিনিয়তই আমাকে স্মৃতিকাতর করে রাখে।
আমার ফেলে আসা দিনগুলো প্রতিনিয়তই আমাকে স্মৃতিকাতর করে রাখে।
আপনার আমার ঠিকানা
📖 লিটন হোসাইন জিহাদ — “বেদনার নীল প্রহর”
নদীর ধারে সেই বিকেলটা ছিল অন্যরকম—নরম সূর্যাস্ত, হালকা কুয়াশার আভা, আর বাতাসে নদীর স্রোতের এক অদ্ভুত সঙ্গীত। রিকসার চাকা পিচ্ছিল মাটিতে ঢেঁকুও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম, মনে অজানা উত্তেজনা, অচেনা আগ্রহ। ঠিক তখনই রায়হানা—রাজুতির বন্ধু, শহরের পরিচিত মুখ—আমার দিকে এগিয়ে এল। “পথিক, দেখ, আমি এক বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। সে রাজুতি,” বলল…
📖 লিটন হোসাইন জিহাদ — “বেদনার নীল প্রহর”
নদীর ধারে সেই বিকেলটা ছিল অন্যরকম—নরম সূর্যাস্ত, হালকা কুয়াশার আভা, আর বাতাসে নদীর স্রোতের এক অদ্ভুত সঙ্গীত। রিকসার চাকা পিচ্ছিল মাটিতে ঢেঁকুও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম, মনে অজানা উত্তেজনা, অচেনা আগ্রহ। ঠিক তখনই রায়হানা—রাজুতির বন্ধু, শহরের পরিচিত মুখ—আমার দিকে এগিয়ে এল। “পথিক, দেখ, আমি এক বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। সে রাজুতি,” বলল…
আমার সোনার বাংলা
বন্ধুরা সবাই কেমন আছো?
জীবন কখনোই সবকিছু আমাদের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে দেয় না। কখনো আনন্দ আসে, কখনো দুঃখ; কখনো মানুষ পাশে থাকে, আবার কখনো প্রিয় মানুষগুলোও দূরে সরে যায়। তবুও জীবন থেমে থাকে না—নিজের গতিতে এগিয়ে চলে।
মনে রাখবেন, খারাপ সময় চিরস্থায়ী নয়। আজ যে কষ্ট আপনাকে ভেঙে দিচ্ছে, একদিন সেই কষ্টই আপনাকে আরও শক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তাই পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবেন না।
মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সুন্দর একটি মন। অর্থ, খ্যাতি কিংবা সাফল্য একদিন হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু একজন মানুষের ভালো ব্যবহার, ভালোবাসা ও সুন্দর কথাগুলো অন্যের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।
প্রকৃতি
প্রিয়াহীন শ্রাবণ
শ্রাবণের আকাশ আজ এক বিধবা সমুদ্র,
বুকের সমস্ত নীল হারিয়ে
কালো মেঘের শাড়ি পরে বসে আছে বিষণ্নতার ঘাটে।
দূরে কোথাও বাজ পড়লো মনে হয়,
কেউ অন্ধকারের বুক চিরে
তোমার নামটি লিখে আবার মুছে ফেলছে।
বৃষ্টি নামে।
নিঃশব্দে, অবিরাম, অভিমানীর চোখের মতো।
জানালার কাঁচ বেয়ে নেমে আসে অসংখ্য জলরেখা,
প্রতিটি রেখায় তোমার মুখের একেকটি স্মৃতি,
প্রতিটি ফোঁটায় একেকটি অসমাপ্ত বিদায়।
আজ কেয়া ফুলের গন্ধেও বিষাদ।
কদমের গোল মুখে জমে আছে
বহুদিনের না-বলা কোনো প্রেমের পাণ্ডুলিপি।
বাতাস যখন কদমের ডালে হাত রাখে,
মনে হয়—
প্রকৃতিও বুঝি আজ আমাকে জিজ্ঞেস করছে,
“সে কোথায়?”
আমি কোনো উত্তর দিই না।
শুধু দূরের জলমগ্ন মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকি।
সেখানে বৃষ্টিরা ঘাসের শরীরে
হাজার বছরের কোনো গোপন মন্ত্র লিখে যাচ্ছে,
আর ব্যাঙের ডাকের ভেতর দিয়ে
রাত ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে
এক অতল প্রাচীন জাদুর দেশ।
কখনো মনে হয়,
তুমি এইমাত্র এসে দাঁড়াবে দরজায়।
ভেজা চুল থেকে টুপটুপ করে পড়বে শ্রাবণ,
চোখের কোণে থাকবে মেঘের মতো মায়া,
আর তুমি বলবে,
“এতদিন কোথায় ছিলে?”
আমি তখন হয়তো হাসব,
যেমন শুকনো নদী বর্ষার প্রথম জলে হাসে।
কিন্তু দরজা খোলে না।
শুধু হাওয়া আসে।
তোমার অনুপস্থিতির মতো ঠান্ডা,
তোমার স্মৃতির মতো দীর্ঘ।
রাত বাড়ে।
মেঘের গর্ভে চাঁদটি
এক মৃত রাজ্যের নির্বাসিত রাজপুত্রের মতো
আলোহীন ঘুমিয়ে থাকে।
আর আমি একা বসে শুনি—
টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ,
দূরের বাঁশবাগানে বাতাসের কান্না,
কদমপাতায় জল ঝরার ক্ষীণ সুর।
এই পৃথিবীতে কত বৃষ্টি আসে,
কত নদী ভরে ওঠে,
কত কেয়া ফুল ফোটে,
কত কদমের গন্ধে রাত মাতাল হয়;
শুধু আমার ঘরের ভেতর
একটি ঋতু কোনোদিন আসে না।
তোমার ঋতু।
তাই শ্রাবণ এলেই
আমি আকাশের দিকে তাকাই না আর।
কারণ জানি,
মেঘ যতই নামুক,
বৃষ্টি যতই পৃথিবী ভাসাক,
কোনো বর্ষাই ফিরিয়ে দিতে পারে না
হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে।
তবু বৃষ্টি নামে।
কেয়া দোলে।
কদম ফোটে।
নদী উথলে ওঠে।
আর আমার একাকী জানালার পাশে
একটি পুরোনো হৃদয়
শ্রাবণের শেষ বৃষ্টির মতো
তোমাকে ভালোবেসেই
ধীরে ধীরে
অন্ধকার হয়ে যায়।
প্রিয়াহীন শ্রাবণ
শ্রাবণের আকাশ আজ এক বিধবা সমুদ্র,
বুকের সমস্ত নীল হারিয়ে
কালো মেঘের শাড়ি পরে বসে আছে বিষণ্নতার ঘাটে।
দূরে কোথাও বাজ পড়লো মনে হয়,
কেউ অন্ধকারের বুক চিরে
তোমার নামটি লিখে আবার মুছে ফেলছে।
বৃষ্টি নামে।
নিঃশব্দে, অবিরাম, অভিমানীর চোখের মতো।
জানালার কাঁচ বেয়ে নেমে আসে অসংখ্য জলরেখা,
প্রতিটি রেখায় তোমার মুখের একেকটি স্মৃতি,
প্রতিটি ফোঁটায় একেকটি অসমাপ্ত বিদায়।
আজ কেয়া ফুলের গন্ধেও বিষাদ।
কদমের গোল মুখে জমে আছে
বহুদিনের না-বলা কোনো প্রেমের পাণ্ডুলিপি।
বাতাস যখন কদমের ডালে হাত রাখে,
মনে হয়—
প্রকৃতিও বুঝি আজ আমাকে জিজ্ঞেস করছে,
“সে কোথায়?”
আমি কোনো উত্তর দিই না।
শুধু দূরের জলমগ্ন মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকি।
সেখানে বৃষ্টিরা ঘাসের শরীরে
হাজার বছরের কোনো গোপন মন্ত্র লিখে যাচ্ছে,
আর ব্যাঙের ডাকের ভেতর দিয়ে
রাত ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে
এক অতল প্রাচীন জাদুর দেশ।
কখনো মনে হয়,
তুমি এইমাত্র এসে দাঁড়াবে দরজায়।
ভেজা চুল থেকে টুপটুপ করে পড়বে শ্রাবণ,
চোখের কোণে থাকবে মেঘের মতো মায়া,
আর তুমি বলবে,
“এতদিন কোথায় ছিলে?”
আমি তখন হয়তো হাসব,
যেমন শুকনো নদী বর্ষার প্রথম জলে হাসে।
কিন্তু দরজা খোলে না।
শুধু হাওয়া আসে।
তোমার অনুপস্থিতির মতো ঠান্ডা,
তোমার স্মৃতির মতো দীর্ঘ।
রাত বাড়ে।
মেঘের গর্ভে চাঁদটি
এক মৃত রাজ্যের নির্বাসিত রাজপুত্রের মতো
আলোহীন ঘুমিয়ে থাকে।
আর আমি একা বসে শুনি—
টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ,
দূরের বাঁশবাগানে বাতাসের কান্না,
কদমপাতায় জল ঝরার ক্ষীণ সুর।
এই পৃথিবীতে কত বৃষ্টি আসে,
কত নদী ভরে ওঠে,
কত কেয়া ফুল ফোটে,
কত কদমের গন্ধে রাত মাতাল হয়;
শুধু আমার ঘরের ভেতর
একটি ঋতু কোনোদিন আসে না।
তোমার ঋতু।
তাই শ্রাবণ এলেই
আমি আকাশের দিকে তাকাই না আর।
কারণ জানি,
মেঘ যতই নামুক,
বৃষ্টি যতই পৃথিবী ভাসাক,
কোনো বর্ষাই ফিরিয়ে দিতে পারে না
হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে।
তবু বৃষ্টি নামে।
কেয়া দোলে।
কদম ফোটে।
নদী উথলে ওঠে।
আর আমার একাকী জানালার পাশে
একটি পুরোনো হৃদয়
শ্রাবণের শেষ বৃষ্টির মতো
তোমাকে ভালোবেসেই
ধীরে ধীরে
অন্ধকার হয়ে যায়।
📖 pothiktv — “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণবার্ষিকী আজ”
বর্ষা ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় ঋতু। বর্ষাতেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরলোকে যাত্রা করেছিলেন বাঙালি মনন–সৃজনের এই অসাধারণ প্রতিভা। আজ বৃহস্পতিবার ২২ শ্রাবণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতে তাঁর জীবনাবসান হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখালেখি শুরু করেছিলেন মাত্র আট বছর বয়সে। বিচিত্র তার বিষয়, বিপুল তার পরিমাণ। তাঁর…
সময়ের সাথে সাথে
সময়ের সাথে সাথে
https://sahitya.pothiktv.com/writings/%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a6%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b2-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%b0/
https://sahitya.pothiktv.com/writings/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a5-%e0%a6%a0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%af/
pothiktv
সুন্দর ভাবনা
আমার সোনার বাংলা
হাই
কেউ কোনোদিন আমাকে চিঠি লেখেনি—
দুঃখের নীল খামে নয়,
সুখের রৌদ্রোজ্জ্বল ডাকেও নয়,
অপেক্ষার দীর্ঘ নিশ্বাস ভাঁজ করে
কেউ রাখেনি আমার নামে কোনো শব্দ।
ডাকপিয়নের পায়ের শব্দ শুনলেই
একসময় জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াতাম—
ভাবতাম, হয়তো আজ
কোনো অচেনা হৃদয়
আমার নিঃসঙ্গতার ঠিকানা জেনে গেছে।
কিন্তু ডাকপিয়ন চলে গেছে,
পৃথিবী তার সমস্ত চিঠি বিলিয়ে দিয়েছে অন্যত্র,
আর আমার দুয়ারে পড়ে থেকেছে
শুধু বাতাসের অব্যক্ত দীর্ঘশ্বাস।
কেউ কখনো জানতে চায়নি—
আমি কেমন আছি।
কেমন আছে আমার ভেতরের সেই শিশুটি,
যে এখনো সন্ধ্যা হলে
কারও ফিরে আসার শব্দ শোনে?
কেমন আছে আমার হৃদয়ের সেই নদী,
যার জল প্রতিদিন
নিজেরই তীরে এসে ভাঙে?
কেউ জানতে চায়নি—
রাত্রিগুলো আমাকে কতখানি খায়,
কতটা অন্ধকার জমলে
একজন মানুষ নিজের ছায়াকেও চিনতে পারে না।
সভ্যতার এই বিপুল আয়োজনের মধ্যে
আমি এক অদ্ভুত অসভ্যতার শিকার—
মানুষে মানুষে যোগাযোগের এত সেতু,
তবু হৃদয় থেকে হৃদয়ে
কোনো পথ নেই।
হাজারো কণ্ঠের এই নগরে
আমার নীরবতার জন্য
একটি কানও বরাদ্দ হয়নি।
এখানে সবাই খবর জানে—
কিন্তু কেউ খবর নেয় না।
সবাই চোখ রাখে পর্দায়,
কিন্তু কারও চোখে চোখ রেখে
জিজ্ঞেস করে না—
“তুমি সত্যিই ভালো আছো তো?”
সভ্যতা আমাকে দিয়েছে
অসংখ্য পরিচয়,
অসংখ্য সংখ্যা,
অসংখ্য সংযোগের প্রতিশ্রুতি—
তবু কেড়ে নিয়েছে
একটি মানুষের সহজ স্পর্শ।
আমি এখন এমন এক ঠিকানা,
যেখানে ডাকবাক্স আছে,
কিন্তু কোনো চিঠি নেই
#dadabhi
লিটন হোসাইন জিহাদ এর বই
যখন আমার কণ্ঠে প্রথম উচ্চারণ, “বাবা”—
তখনই সৃষ্টিকর্তা একটি দরজা খুলে দেন আকাশের।
বৈশাখের পূর্ণিমার রাত, চাঁদ ভাঙা ভাঙা মেঘের আড়ালে উকিঝুকি করছে। দুর থেকে ভেসে আসছে খেকশেয়ালের আওয়াজ। আজকের রাতটা অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশিই সুন্দর। পৃথিবী ঘুমিয়ে থাকলেও নিহালের চোখে ঘুম নেই। সে যে বাড়িটিতে থাকে তা শহর থেকে দুই কিলোমিটার দুরে । শহর ও গ্রামের মিলনে এক ভিন্ন রকম পরিবেশ এ জায়গাটায়। উত্তর দিকে জানালা দিকে থাকলেই দেখা যায় পরিত্যাক্ত একটি রেলস্টেশন। পরিত্যাক্ত স্টেশন মাস্টারের রুমটা ঘেষেই দাঁড়িয়ে আছে একটি সুনালু ফুল গাছ। বসন্তকালে এর রূপ অনেকটায় মৃতপ্রায়। বৈশাখের আগ মুর্হুতে বসন্ত নিজকে গুটিয়ে নেওয়ার পরই সোনালু ফুল গাছটি এক অলৌকিক ভাবে যেন প্রাণ ফিরে পায়। গাছজুড়ে পুষ্পকলিরা উঁকি দেয়, ছড়িয়ে দেয় প্রাণের শিহরণ। সুনালো ফুল গাছটা যেন আজকে পৃথিবীর সকল সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কারো অপেক্ষায়। নেহালের বুকের যন্ত্রণা কি সে অনুভব করতে পারছে?
বৈশাখের পূর্ণিমার রাত, চাঁদ ভাঙা ভাঙা মেঘের আড়ালে উকিঝুকি করছে। দুর থেকে ভেসে আসছে খেকশেয়ালের আওয়াজ। আজকের রাতটা অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশিই সুন্দর। পৃথিবী ঘুমিয়ে থাকলেও নিহালের চোখে ঘুম নেই। সে যে বাড়িটিতে থাকে তা শহর থেকে দুই কিলোমিটার দুরে । শহর ও গ্রামের মিলনে এক ভিন্ন রকম পরিবেশ এ জায়গাটায়। উত্তর দিকে জানালা দিকে থাকলেই দেখা যায় পরিত্যাক্ত একটি রেলস্টেশন। পরিত্যাক্ত স্টেশন মাস্টারের রুমটা ঘেষেই দাঁড়িয়ে আছে একটি সুনালু ফুল গাছ। বসন্তকালে এর রূপ অনেকটায় মৃতপ্রায়। বৈশাখের আগ মুর্হুতে বসন্ত নিজকে গুটিয়ে নেওয়ার পরই সোনালু ফুল গাছটি এক অলৌকিক ভাবে যেন প্রাণ ফিরে পায়। গাছজুড়ে পুষ্পকলিরা উঁকি দেয়, ছড়িয়ে দেয় প্রাণের শিহরণ। সুনালো ফুল গাছটা যেন আজকে পৃথিবীর সকল সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কারো অপেক্ষায়। নেহালের বুকের যন্ত্রণা কি সে অনুভব করতে পারছে?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষাবিস্তার, সাংগঠনিক কর্ম ও সমাজকল্যাণমূলক কাজেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কৃষক ও পল্লির উন্নয়নের জন্য চালু করেছিলেন কৃষিঋণব্যবস্থা। নতুন ধরনের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠান। জালিয়ানওয়ালাবাগে দেশবাসীর ওপর ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সেনাদের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে তিনি ত্যাগ করেছিলেন নাইটহুড খেতাব।
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা সুন্দরী দেবী দম্পতির ১৫ সন্তানের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ১৪তম। কলকাতার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের জোড়াসাঁকোর বাড়িতে তাঁর জন্ম ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখে। ঠাকুর পরিবার তখন ছিল মর্যাদা ও সংস্কৃতিচর্চায় বিশেষ খ্যাতির অধিকারী। সেই পরিবেশ শৈশবেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মনকে মুক্ত করে দিয়েছিল। পরবর্তীকালে বিশেষত বাংলার পদ্মা, মেঘনা, যমুনায় নৌকায় ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তিনি নিসর্গ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যার প্রভাব তাঁর সাহিত্যে বিপুলভাবে পড়েছে।
১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও কবির গান সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর গান আমাদের জাতীয় সংগীত। সব মিলিয়েই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণদিবস উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা সাতটায় গীতিনাট্য শ্যামা মঞ্চায়ন করবে ছায়ানট। রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
বাবা মানেই পায়ের নিচে ঝলসে যাওয়া পুলসেরাত,
নিজে পুড়ে সন্তানের জন্য আকাশ রেখে যান আভাস।
২.
যার কাঁধে ভর দিয়েই প্রথম উঠে দাঁড়াই,
সে কাঁধ একদিন হয়ে ওঠে বেহেশতের সিঁড়ি।
৩.
বাবা কোনো মানুষ নন—স্রষ্টার এক অনুবাদ,
যিনি নিঃশব্দে কষ্ট গিলে গড়ে তোলেন মহাকাব্যিক পরিবার।
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা যে দীপ, সে-ই বাবা,
তার ছায়ায় দাঁড়ালেই জীবন বুঝে নেয় তার মানে।
বেনামী নীল প্রহর -১
লিটন হোসাইন জিহাদ
বদলে যাওয়া মানুষের মুখ দেখে, মাঝে মাঝে আমি বরফের মতো জমে যায়। অথচ একটা সময় একটু ভালোবাসার উষ্ণতা আমাকে অ্যান্টার্কটিকা বরফের মতো গলিয়ে দিত । আর এখন নিঃশ্বাস টুকু গিলে, নিজের ভিতর নিজেকেই গুম করে ফেলি অজুত লক্ষ নিযুত কোটি বার।
একটি বিশ্বাস আর ভরসার নৌকার চড়ে আমার আর মায়ার প্রেম অর্ধযুগের বেশি সময় পার করেছে। যেদিন এক তরফা প্রেমের মহামারী থেকে বের হয়ে স্ব-জ্ঞানে ফিরে এলাম, মায়ার প্রেমের মুখোশটা খসে পড়লো আচমকা এক ধমকা হাওয়ায়। জোসনা মাখা বর্ষার রাত, দক্ষিনা হাওয়ায় জলের উপর নৌকার হেলেদুলে চলার মতোই মায়ার মনে দুলছে অন্য কেউ। জলের তলে চাঁদের ডুবসাঁতারি দেখতে দেখতে হয়তো মায়া আর নিজেকে আটকাতে পারেনি। একাকার হয়েছে দুজন।
আমি মায়াকে কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর সে ফোনটা ধরেছে। কিন্তু আমি তাকে আর ধরতে পারিনি। জলের নিস্তব্ধ বয়ে চলা জানিয়ে দিয়েছিল ঐদিন রাতে সে হারিয়েছে তার সম্ভ্রম আর আমি হারিয়েছি প্রেমের পবিত্রতা। সারা রাত বিশ্বাস ভাঙার ঝড়ে আর ঘুমাতে পারিনি। ভোরের আলো ফুটে ওটার আগেই আমি তার বাসায় চলে যায়, মায়ার সাথে একান্ত কথা বলার জন্য। হৃদয়ের আকুলতা এতোই বেড়ে গিয়েছিল যে, তার কাছে পৌছাতে আমি বঙ্গোপসাগর ও পারি দিতে পারতাম ঐ সময়।
মনে পরে খুব কফিতে চমুক দিতে দিতে আমরা- দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানিয়ে দিতাম। কখন যে সময় চলে যেতো মায়ার হাসিতে আমি তা বুঝতেই পারতাম না। এটা আমাদের বিগত সাত বছরের অভ্যাস। কিন্তু হঠাৎ করেই মায়া বদলে গেলো। ব্যস্ততার অজুহাতে সে তার অবহেলার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে লাগলো। নতুন করে নিজেকে সাজাতে লাগলো অন্যরূপে।
আগে রূপচর্চা নয়, আমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মায়ার প্রথম কাজ ছিল, ঠোঁটে লিপস্টিক পরাটা তার পছন্দ ছিলনা। অথচ অন্যকারো ভালো লাগায় সে এখন নিয়ম করে রূপচর্চা করে, ঠোঁটে লিপস্টিক লাগায়, চুলের প্রতিও অনেক যত্নশীল। বদলে যাওয়া মায়া হয়ে উঠলো শহরের লাস্যময়ী নারী। এমন কী কবিতার ছন্দে কেউ কেউ তাকে রাঙাতে শুরু করলো। শাড়ীতে অন্যচোখে হয়ে উঠলো সে নয়নতারা। কিন্তু আমি আর তাকে সুন্দর বলতে পারিনা,তাকে সুন্দর বলতে আমার খুব কষ্ট হয়। বলতে না পারার কারণেই দুঃখ পাই আরো বেশি।
আচ্ছা, আপনারা কি বলতে পারেন কোন কারনে নারীর সৌন্দর্য ভঙ্গ হয়? তবে আমি জানি! নারীর সৌন্দর্য হলো তার সততায় এবং তার জীবন সঙ্গীর বিশ্বস্তায়। চামরা ঝুলে পরা কোনো বয়স্ক নারীর ও তার সুন্দর্যে অটুট থাকতে পারে তার সঙ্গীর স্বচ্ছ ভালোবাসায়। অথচ মায়ার রহস্যময় বদলে যাওয়া তার শরীরের প্রতি যত্নশীল হলেও ভিতরের সৌন্দর্যটা সে হারিয়ে ফেললো।
এখন ইচ্ছে হলে আমি তাকে ছুঁতে পারি, কিন্তু অশ্রুজলে হাজারো রাত বিসর্জন দিয়েও তাকে আর ধরতে পারি না। আগে আমি তাকে না ছুঁলে সে আমাকে ধরে ছাড়তো। রোগের পথ্যের মতো নিয়ম করে তার কন্ঠস্বর সারিয়ে দিতো আমার জ্বর। মায়াহীন আমার কখনো সকাল হয়নি।
মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাত শেষ করে দেওয়া যেত দুজনের অথচ এখন তাকে ফোন দিলে ঘুমের অজুহাতে সে অন্য কানেকশনে ব্যস্ত থাকে।
প্রেমের বিচ্ছেদে ততটা বিচলিত নই আমি, যতটা বিচলিত তার রহস্যময় বদলে যাওয়ায়। মায়াকে সুখে দেখবো এই ভেবে নিজের অজান্তেই কতোবার নিজেরে স্বপ্নগুলো খুন করেছি, বিধাতার তা অজানা নয়। কিন্তু সে যেভাবে মিথ্যা অভিলাসে দ্বিচারীনি হয়ে উঠলো তা আমার হৃদয়ে ক্যান্সারের মতো এক রহস্যময় যন্ত্রনার জন্ম দিয়েছে। ভেঙে দিয়েছি আমার যত্নে রাখা বিশ্বাস। কয়েকটি দিনের ব্যবধানে জীবনের সকল স্বপ্ন লন্ডভন্ড হয়ে গেলো। বেদনার নীল প্রহরে পাথরচাপা কষ্ট বুকে নিয়ে পথচলা যে কি নিদারুন কষ্ট, প্রেমিক মাত্রই তা অনুভব করতে পারে।
এতোক্ষণ যে মায়ার কথা বলছি তার পারিবারিক নাম রাজুতি, তার সহপাঠি থেকে কর্মস্থলের সবাই তাকে এ নামেই চিনে। প্রাচুর্যের মাঝে এক প্রকার অবহেলায় বেড়ে উঠা নারী রাজুতি। গতানুগতিক প্রেম,সর্ম্পক ও জীবনধারার বাহিরে তার নিজেস্ব একটি জগত তৈরি করা ছিল। এখানে প্রবেশ করে আমার কল্পনার নারীর মতোই তাকে হৃদয়ের রানী বানিয়ে নিলাম। হাজার বছরের কল্পনার নারী যেভাবে পুরুষের হৃদয়ে ঘুরপাক খায় আমিও তার চেয়ে ভিন্ন কেউ ছিলাম না। আমার চোখে রাজুতি ছিল রোদ্রক উজ্জল ভোর,অনিন্দ্য কুসুম,সুবাসিত ফুল। তার কাজল রাঙা আখি ও লাজুক হাসিতে বার বার পরাজিত হতাম। সে ছিল মাধবী ভোরের মায়াবী সকাল,বুকের খুন দিয়ে হাজারো গুল্মে সজিব হয়েছিল হৃদয়ের বাগিচায়। আদর করে তার নামকরণ করেছিলাম “মায়া”।
তুমি যে আমার কবিতা
তুমি যে আমার কবিতা






























ভালো আছি,আপনি কেমন আছেন
ধন্যবাদ আপনাকে
কি খবর তোমার
ওকে
ওকে লিটন
💔