দু’দিন ধরে ঢাকা আমার শরীরে গেঁথেছে ধোঁয়া,
বৃষ্টির জলে গলে গেছে ছাতা, গলে যায় বুকের দেয়াল,
শহরের চৌরাস্তা যেন হৃদয়ের বিভক্তি—
এক দিকে প্রেমিক যুগল,
অন্য দিকে আমি—
একাকী,
হাতিরঝিলের ধারে পরিত্যাক্ত ছায়া হয়ে বসে আছি।
তারা হাত ধরে হাঁটে,
যেন দুইটা স্বপ্ন এক সুতোয় গাঁথা,
চোখে চোখ রেখে গড়ে তোলে ভবিষ্যৎ,
আর আমার চোখে?
একটা পরিত্যক্ত ডায়েরির পাতা,
যেখানে লেখা—
“তুমি ফিরবে না, কিন্তু বৃষ্টি আসবেই।”
হঠাৎ মনে হয়—
এই শহরটা প্রেমিকদের জন্য নয়,
এটা তাদের জন্য যারা অপেক্ষা করে,
যারা ছায়ার সঙ্গে কথা বলে,
যারা কফির কাপে ঠোঁট ছুঁয়ে
অন্য কারো ঠোঁটকে মনে করে কাঁদে।
একটা বিলবোর্ডে লেখা—
“ভালোবাসা এখন ৫০% ছাড়ে।”
আর আমার বুকের ভেতর
একটা দরজা খুলে যায়,
যেখান থেকে বেরিয়ে আসে
আধেক মানুষ, আধেক কান্না,
আধেক পাখি, আধেক শূন্যতা।
রাত্রির গায়ে লেগে থাকা টিএসসি-র শব্দ,
আর পাশেই রিকশাওয়ালার বাঁশির সুরে
আমি শুনি আমারই নাম—
একটা নাম, কেউ আর ডাকে না।
এ শহর জানে,
যে হাত ধরেছে, সে-ই একদিন ছাড়বে,
যে কাঁধে মাথা রেখেছে, সেখানেই আরেকটা মাথা আসবে,
আর আমি?
হাতিরঝিলের পানিতে নিজের ছায়া দেখে
ভাবি—
এই আমি কি সত্যি আছি?
নাকি কেবল পরাবাস্তব এক প্রেমিক,
যার প্রেমিকা এখন অন্য এক জগতে হাঁটে,
আলোয় ভাসে, আমি ছায়ায় থাকি।
এই ব্যস্ত শহরের প্রতিটি ট্রাফিক লাইটে
একটি সম্পর্ক দাঁড়িয়ে থাকে
লাল বাতির অপেক্ষায়,
আর প্রতিটি ভোরে
একটি পরিত্যক্ত প্রেম জেগে ওঠে—
আবার নতুন করে হারানোর জন্য।






মন্তব্য ও আলোচনা
া্ওরেওরেওর