প্রচ্ছদ সমাজ লিখুন ফটোকার্ড দিনলিপি প্রোফাইল

শীর্ষ ধনীদের ‘টাকার মেশিন’ এআই

👁️ 6 ভিউ0 শেয়ার💬 0 মন্তব্য

নিত্যনতুন চমক হাজির করে প্রযুক্তি খাতকে নতুন উচ্চতায় এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। শিল্প খাত থেকে শুরু করে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে এআই।ফলে এই খাতে বাড়ছে বিনিয়োগ, রিটার্নও মিলছে প্রত্যাশার বেশি। সম্পদবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান আলট্রাটা বলছে, বিশ্বজুড়ে শীর্ষ ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে এআই।একই সময়, তাঁদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সম্পদ বেড়ে ১৫.১ ট্রিলিয়নে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এআইকেন্দ্রিক বিনিয়োগের জোয়ারে প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর মূল্যায়ন বেড়ে যাওয়ায় এই খাতের ধনীদের সম্পদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।
আলট্রাটা জানিয়েছে, বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বৃদ্ধিতে যেসব কম্পানির অবদান সবচেয়ে বেশি, তেমন ১৫০টি তালিকাভুক্ত কম্পানি চিহ্নিত করেছে তারা।গত পাঁচ বছরে যেসব কম্পানি এআই খাতে অন্তত তিন কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের বাজার মূলধন বৃদ্ধির হার সেসব কম্পানির চেয়ে ২৩ শতাংশ বেশি, যারা এআই খাতে বিনিয়োগ করেনি।
প্রতিবেদনে ২৯ জন ‘সুপার বিলিয়নেয়ার’-এর কথা বলা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি ডলারের বেশি। তাঁদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৪.১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের সব বিলিয়নেয়ারের মোট সম্পদের ২৭ শতাংশ। ২০১৭ সালে এ ধরনের সুপার বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০।

তখন তাঁদের সম্পদের পরিমাণ ছিল অনেকটাই কম। বিশ্বের বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পদের মাত্র ৭.২ শতাংশ।
ফোর্বস ম্যাগাজিন যে শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকা প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে ৯ জনই প্রযুক্তি খাতের। এদের মধ্যে অর্ধেকের সম্পদের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি। আলট্রাটার থট লিডারশিপ ও অ্যানালিটিকস বিভাগের প্রধান মায়া ইমবার্গের মতে, ওয়াল স্ট্রিটে এআই নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাসের কারণে বিলিয়নেয়ারদের মধ্যে সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে।

ইমবার্গ বলেন, প্রযুক্তি কম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সম্পদ বৃদ্ধির হার ঐতিহাসিক পর্যায়ে উঠেছে। তবে এআই সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কম্পানির শেয়ারের দাম দ্রুত ওঠানামা করতে পারে। ফলে এক ধরনের অস্থিরতা থেকেই যায়। ই-মেইলে ইমবার্গ বলেন, এআইয়ের কারণে প্রযুক্তিনির্ভর কম্পানির যাঁরা মালিক অর্থাৎ বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে অনেকের সম্পদের পরিমাণও কমবেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি বছর মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে বড় চিপ কম্পানিগুলোর শেয়ারে ধসের কারণে বাজারমূল্য থেকে ১.৩ ট্রিলিয়ন বা এক লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার কমে যায়। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, তাঁদের কাগুজে সম্পদ খুব দ্রুত বিপুল পরিমাণে ওঠানাম করে। ফোর্বসের হিসাবে দেখা গেছে, ইলন মাস্কের সম্পদমূল্য এক দিনেই এক হাজার ৮০০ কোটি ডলার ও ল্যারি এলিসনের এক সপ্তাহে পাঁচ হাজার কোটি ডলার কমে গেছে।

ইমবার্গ বলেন, বাজারের একটি খাত বা কয়েকটি কম্পানিতে অতিরিক্ত আগ্রহ থাকলেই যে সেখানে বুদ‌বুদ তৈরি হবে, তা নয়। তবে বিনিয়োগ যখন প্রধান খাত, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাত এবং তার মধ্যে এআইকেন্দ্রিক কম্পানিতে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, তখন অবশ্যই ঝুঁকি থাকে। আলট্রাটার হিসাবে ২০২৫ সালে উত্তর আমেরিকায় বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ১১.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৩৭ জন। বিশ্বের অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার বেশি। ইমবার্গের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এখন এআই খাতের জয়জয়কার।

গত বছর ইউরোপে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৭.৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮১ জন। এশিয়ায় ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধির পর বিলিয়নেয়ার সংখ্যা হয়েছে ৮৮১।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই নিয়ে উচ্ছ্বাস শতকোটিপতিদের সম্পদ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে বিভিন্ন দিক থেকেই ২০২৫ সাল অস্বাভাবিকভাবে লাভজনক ছিল। আলট্রাটা যেসব সম্পদ শ্রেণির হিসাব রাখে, ২০২৫ সালে তার সব কটিতেই ইতিবাচক ফল এসেছে। করোনা মহামারির পর এই প্রথম এমন ঘটল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ ঘিরে অস্থিরতার মধ্যেও এআই ও প্রযুক্তি খাতের ধনীদের মধ্যে সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সূত্র : সিএনবিসি, ফোর্বস

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ও আলোচনা

0 মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনার মতামত দিয়ে আলোচনার শুরু করুন।