প্রচ্ছদ সমাজ লিখুন ফটোকার্ড দিনলিপি প্রোফাইল

প্রতিদ্বন্দ্বীরা এগোচ্ছে পিছিয়ে বাংলাদেশ

👁️ 10 ভিউ0 শেয়ার💬 0 মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে এখন মন্দাভাব চলছে। ক্রেতারা আগের তুলনায় কম পোশাক কিনছেন।ফলে দেশটির আমদানিও কমেছে। তবে এই কঠিন সময়েও কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ নতুন অর্ডার টানতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সেটাই উদ্বেগের কারণ।
মার্কিন সরকারের পোশাক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি কমে চার হাজার ১৮৩ কোটি ডলারে নেমেছে।আমদানি কমেছে ৮.৬৫ শতাংশ।
একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৬৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৫ শতাংশ কম। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে জুলাইয়ের তথ্য। এক মাসেই বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ১০.৭৩ শতাংশ।বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে চাহিদা কমলেও সব দেশ সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং অনেক দেশ সংকটের মধ্যেও নতুন ক্রেতা ও নতুন অর্ডার পেয়েছে। চীনের রপ্তানি ৩৪.২১ শতাংশ এবং ভারতের রপ্তানি প্রায় ২৫.৭৭ শতাংশ কমেছে। ফলে ধারণা করা হয়েছিল, এসব দেশের হারানো অর্ডারের বড় অংশ বাংলাদেশ পাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।
বরং ভিয়েতনাম তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ২.৭৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ১০.৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাজার ছোট হলেও নতুন অর্ডার সংগ্রহে দেশ দুটি এগিয়ে যাচ্ছে। পিস কাউন্ট বা পোশাকের পরিমাণের হিসাবেও একই চিত্র দেখা যায়। বাংলাদেশের রপ্তানি পরিমাণ কমেছে ৪.৩৪ শতাংশ। কিন্তু ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশ এখনো মূলত তুলাভিত্তিক পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে সিনথেটিক, স্পোর্টসওয়্যার ও উচ্চমূল্যের পোশাকের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই খাতে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া অনেক এগিয়ে গেছে।

এ ছাড়া জ্বালানিসংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থার চ্যালেঞ্জও বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে। অনেক কারখানা এখনো গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে প্রত্যাশা পূরণে উৎপাদন করতে পারছে না। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহিউদ্দিন রুবেল বলেন, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সংকুচিত হলেও বাংলাদেশের পতন চীন ও ভারতের তুলনায় কম। তবে জুলাই মাসের দ্বি-অঙ্কের পতনকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখতে হবে। কারণ এটি আগামী মাসগুলোতে অর্ডারপ্রবাহ আরো দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। তিনি বলেন, শুধু কম খরচে উৎপাদন করে আর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ও আলোচনা

0 মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনার মতামত দিয়ে আলোচনার শুরু করুন।