কেউ কোনোদিন আমাকে চিঠি লেখেনি—
দুঃখের নীল খামে নয়,
সুখের রৌদ্রোজ্জ্বল ডাকেও নয়,
অপেক্ষার দীর্ঘ নিশ্বাস ভাঁজ করে
কেউ রাখেনি আমার নামে কোনো শব্দ।
ডাকপিয়নের পায়ের শব্দ শুনলেই
একসময় জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াতাম—
ভাবতাম, হয়তো আজ
কোনো অচেনা হৃদয়
আমার নিঃসঙ্গতার ঠিকানা জেনে গেছে।
কিন্তু ডাকপিয়ন চলে গেছে,
পৃথিবী তার সমস্ত চিঠি বিলিয়ে দিয়েছে অন্যত্র,
আর আমার দুয়ারে পড়ে থেকেছে
শুধু বাতাসের অব্যক্ত দীর্ঘশ্বাস।
কেউ কখনো জানতে চায়নি—
আমি কেমন আছি।
কেমন আছে আমার ভেতরের সেই শিশুটি,
যে এখনো সন্ধ্যা হলে
কারও ফিরে আসার শব্দ শোনে?
কেমন আছে আমার হৃদয়ের সেই নদী,
যার জল প্রতিদিন
নিজেরই তীরে এসে ভাঙে?
কেউ জানতে চায়নি—
রাত্রিগুলো আমাকে কতখানি খায়,
কতটা অন্ধকার জমলে
একজন মানুষ নিজের ছায়াকেও চিনতে পারে না।
সভ্যতার এই বিপুল আয়োজনের মধ্যে
আমি এক অদ্ভুত অসভ্যতার শিকার—
মানুষে মানুষে যোগাযোগের এত সেতু,
তবু হৃদয় থেকে হৃদয়ে
কোনো পথ নেই।
হাজারো কণ্ঠের এই নগরে
আমার নীরবতার জন্য
একটি কানও বরাদ্দ হয়নি।
এখানে সবাই খবর জানে—
কিন্তু কেউ খবর নেয় না।
সবাই চোখ রাখে পর্দায়,
কিন্তু কারও চোখে চোখ রেখে
জিজ্ঞেস করে না—
“তুমি সত্যিই ভালো আছো তো?”
সভ্যতা আমাকে দিয়েছে
অসংখ্য পরিচয়,
অসংখ্য সংখ্যা,
অসংখ্য সংযোগের প্রতিশ্রুতি—
তবু কেড়ে নিয়েছে
একটি মানুষের সহজ স্পর্শ।
আমি এখন এমন এক ঠিকানা,
যেখানে ডাকবাক্স আছে,
কিন্তু কোনো চিঠি নেই
#dadabhi



সুন্দর হয়েছে