বৃষ্টির দিনে ঘরের কার্নিসে দাঁড়িয়ে থাকি
বৈশাখের বিকেল—
আকাশ তার সব গোপন ক্ষত খুলে দিয়েছে,
মুষলধারার প্রতিটি ফোঁটা
পৃথিবীর বুকে নয়,
আমার ভেতরের ভাঙা দেয়ালে এসে পড়ে।
বৃষ্টির দিনে ঘরের কার্নিসে দাঁড়িয়ে থাকি—
এই সামান্য প্রান্তরেই আমার সমুদ্র,
চোখের সামনে ঝরে পড়ে বৃষ্টি,
আর ভেতরে ঝরে পড়ে স্মৃতি,
দুটোই সমান নিরব, সমান অপ্রতিরোধ্য।
তোমার কথা মনে পড়ে—
না, ঠিক মনে পড়া নয়,
বরং হঠাৎ করে তুমি
বৃষ্টির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসো,
কোনো ভেজা বিকেলের মতো,
কোনো অপূর্ণ ছোঁয়ার মতো।
এই বৃষ্টির শব্দে
আমি শুনতে পাই আমাদের না বলা কথাগুলো—
যেগুলো জমে ছিল
অভিমান হয়ে,
অপ্রকাশিত ভালোবাসা হয়ে,
আর শেষে পরিণত হয়েছিল
এক দীর্ঘ হাহাকারে।
কার্নিসের ধারে জল জমে,
টুপটাপ করে পড়ে নিচে—
ঠিক তেমনি
আমার হৃদয়ের ভাঙা প্রান্ত থেকে
অনুভূতিরা খসে পড়ে,
নীরবে, অবলীলায়।
বৈশাখ তো আগুনের মাস,
তবু আজ সে কাঁদছে—
হয়তো আমার জন্যই,
হয়তো সেই সব মানুষের জন্য
যারা কাউকে হারিয়ে
নিজেদের ভেতরেই হারিয়ে যায়।
কতো অভাব জমে আছে—
তোমার একটি ডাক,
একটি নির্ভার হাসি,
একটি হঠাৎ স্পর্শ—
সবকিছু মিলিয়ে
একটি পূর্ণ পৃথিবী,
যা আজ ভেঙে পড়ে আছে
স্মৃতিপাতার ভাঁজে।
এই বৃষ্টি থেমে যাবে—
মেঘ সরে গিয়ে
আবার আলো নামবে,
কিন্তু আমার ভেতরের এই বর্ষণ
থামার নয়।
কারণ কিছু বৃষ্টি থাকে—
যা আকাশে নয়,
মানুষের ভেতরে জন্ম নেয়,
আর সারাজীবন ঝরে
এক অমীমাংসিত সুরে।
আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি—
কার্নিসের সেই একফোঁটা প্রান্তে,
যেখানে আকাশ আর হৃদয়ের ভাঙন
এক হয়ে গেছে,
আর বৈশাখের বৃষ্টি
একটি অমীয় বিষাদের সুরে
আমাকে ধুয়ে দিচ্ছে বারবার।